কক্সবাজারে জলবায়ু উদ্বাস্তু পল্লীর মানুষগুলো স্থায়ী ঠিনানা পাচ্ছে আজ

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন।।

বিশ্বের বৃহৎ জলবায়ু উদ্বাস্তু পল্লী কক্সবাজার শহরের কুতুবদিয়াপাড়ার মানুষগুলো ২৯ বছর পর আজ স্থায়ী ঠিকানা পাচ্ছে।
কক্সবাজার উপকুলে ১৯৯১ সালে ২৯ এপ্রিল প্রলয়ংকরী ঘুর্ণিঝড় আর পর্যায়ক্রমে জলবায়ু পরিবর্তনে উদ্বাস্তু হওয়া মানুষগুলোর নতুন স্বপ্নের ঠিকানা প্রাপ্তির দিন আজ।
২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৫০মিনিটে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সূচনা বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপরই প্রধানমন্ত্রী নির্মিত ২০টি ভবন শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করবেন এবং ১৯জন উপকারভোগীদের মাঝে বসতঘরের চাবি হস্তান্তর করবেন।
বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম কোন জলবায়ু উদ্বাস্তুদের পুর্নবাসনের ইতিহাসটি সারা বিশ্বে প্রথম বারের মতো রচিত হবে।
বিশ্বের প্রথম জলবায়ু উদ্বাস্তুপল্লীর মানুষগুলো ১৯৯১ সালে মাথা গুজার ঠাই আর সহায় স্বজন হারিয়ে কক্সবাজার বিমান বন্দর লাগোয়া সরকারী হাসজমিতে বসতি গড়ে তোলেন।
২৯ বছর পর তাদের জন্য স্থায়ী মাথাগুজার ঠাঁই করে দিল প্রধান শেখ হাসিনার সরকার।
কক্সবাজার সদরের বাঁকখালী নদীরতীরে খুরুশকুল এলাকায় ২৫৪ একর জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক সুবিধা সম্বলিত আশ্রয়ণ প্রকল্প।
সেনাবাহিনীর ১০ম পদাতিক ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নাধীন ১৩৯ টি পাঁচতলা বিশিষ্ট ভবনের ২০ টিতে প্রথম পর্যায়ে ৬০০ পরিবারকে ফ্ল্যাট হস্তান্তর করা হবে। ২০২৩ সাল নাগাদ ১১৯ টি ভবন নির্মাণ সহ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ১৮ শ ৪০ কোটি টাকা। ৪৪০৯টি পরিবারকে পুর্ণাবাসন করা প্রকল্পে ভাগ করা হয়েছে ৪ টি জোনে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ হাতে লিখে ২০টি ভবনের নিম্নরূপ নামকরণ করেছেন।
গুলমোহর নামটির প্রচলিত নাম ‘কৃষ্ণচূড়া’ এটি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম দিয়েছেন সেটাও নিজ হাতে লিখে দিয়েছেন।
১) দোঁলনচাপা, ২) কেওড়া, ৩) রজনীগন্ধা, ৪) গন্ধরাজ, ৫) হাসনাহেনা, ৬) কামিনী, ৭) গুলমোহর, ৮) গোলাপ, ৯) সোনালী, ১০) নীলাম্বরী, ১১) ঝিনুক, ১২) কোরাল, ১৩) মুক্তা, ১৪) প্রবাল, ১৫) সোপান, ১৬) মনখালী, ১৭) শনখালী, ১৮) বাকখালী, ১৯) ইনানী, ২০) সাম্পান।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানিয়েছেন, আগামী
বৃহস্পতিবার (২৩জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় সদর উপজেলার খুরুশকুলে
সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আশ্রয়ণ প্রকল্পের নির্মিত ভবনগুলোর বসতঘর
উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণের শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ভার্চুয়াল প্লাটফরমের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে সরাসরি অনুষ্ঠানে যোগ দিবেন। এতে গণভবন ও খুরুশকূলের প্রান্ত থেকে নির্ধারিত অতিথিরা অংশগ্রহণ করবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের কর্মসূচীতে থাকছে, সকাল ১০ টায় অতিথিবৃন্দের
অনুষ্ঠানস্থলে আগমন ও আসন গ্রহণ, সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর
ব্যাংকোয়াট হলে আগমন, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে পৌণে ১১টা পর্যন্ত গণভবন প্রান্ত থেকে প্রকল্পের উপর সংক্ষিপ্ত ভিডিও চিত্র প্রদর্শন সঞ্চালনা করবেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস। এরপর সূচনা বক্তব্য রাখবেন সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।
সকাল ১০টা ৫০মিনিটে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সূচনা বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপরই প্রধানমন্ত্রী নির্মিত ২০টি ভবন শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করবেন এবং ১৯জন উপকারভোগীদের মাঝে বসতঘরের চাবি হস্তান্তর করবেন।
এসময় খুরুশকুল প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে
মতবিনিময় করবেন কক্সবাজারের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনের সঞ্চালনায় ৩জন উপকারভোগী অনুভূতি প্রকাশ, সেনাবাহিনীর রামুর ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মো. মাইন উল্লাহ চৌধুরীসহ প্রধানমন্ত্রীর সানুগ্রহ অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ কথা বলবেন।
বেলা পৌণে ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর নিকট বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পের স্মারক গ্রহন
করবেন সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।
খুরুশকূল প্রান্তে ৩জন উপকারভোগী কর্তৃক আশ্রয়ণ প্রকল্পস্থলে রোপন করা হবে ফলদ, বনজ ও ঔষুধী গাছের চারা রোপন।

 

আপনার মন্তব্য দিন