নাজিরার টেক থেকে শুটকির গুড়ার ভিতরে লুকিয়ে পাচারের সময় যাত্রাবাড়ীতে ট্রাকসহ ৬১ হাজার ইয়াবা জব্দ : আটক ২

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন।।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে ৬০ হাজার ১০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‍্যাব।

আটকরা হলেন, মো. হাবিবুর রহমান গাজী (৩১) ও হাফিজুল ইসলাম (৩৩)।
নাজিরার টেক থেকে শুটকির গুড়া ভর্তি ট্রাক যোগে ইয়াবাগুলো ময়মনসিংহে পাচার করছিল।
র‍্যাবের উপঅধিনায়ক মেজর শাহরিয়ার জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে র‍্যাব-১০ এর একটি দল বুধবার রাতে যাত্রাবাড়ী থানাধীন ঘিরিধারা মারাকাতুজ তাহফিজ মাদরাসা ও মসজিদ সংলগ্ন এলাকা থেকে ইয়াবাসহ তাদের আটক করে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় র‍্যাব-১০ অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কাইয়ুমুজ্জামান খান জানান, কক্সবাজার থেকে ট্রাকে করে মাদক নিয়ে ঢাকায় আসার গোপন তথ্য ছিল। সে তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের একটি দল যাত্রাবাড়ীর ঘিরিধারা মারাকাতুজ তাহফিজ মাদরাসার সামনে চেকপোস্ট বসায়।

‘কক্সবাজার থেকে আগত একটি ট্রাকের গতিরোধ করে দুজনকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ৬০ হাজার ১০০ পিস ইয়াবা এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাকটি জব্দ করা হয়।’

সুত্র মতে,  আটকরা পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। তারা দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক যোগসাজশে কক্সবাজার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড নাজিরার টেক থেকে মাদকদ্রব্য এনে ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় সরবরাহ করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে।

কক্সবাজার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড পশ্চিম কুতুবদিয়াপাড়া একাধিক এলাকাবাসী জানান, শুটকির গুড়ি ব্যবসায়ী আবদুর রহমান গুড়ির আড়ালে ইয়াবা পাচার করে আসছিল।
আবদুর রহিম প্রকাশ ভান্ডারী
পশ্চিম কুতুবদিয়াপাড়ার বাসিন্দা।
দীর্ঘ দিন ধরে শুটকির গুড়ার ব্যবসার আড়ালে ইয়াবা পাচার করে আসছিল। শুটকির গুড়ার দিয়ে দেশের সিংহভাগ মাছ ও গবাদিপশুর খাদ্য তৈরির চাহিদা পূরণ করা হয়।

আবদুর রহিমের একটি ইয়াবা সিন্ডিকেট রয়েছে। সাগরপথে ইয়াবার চালান নিয়ে এসে নাজিরার টেকে খালাস করা হতো। পরে শুটকি গুড়া ভর্তি বস্তার ভেতর লুকিয়ে ঢাকা, ময়মনসিংহ সহ বিভিন্ন স্থানে পাচার করে আসছিল দীর্ঘ দিন ধরে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সুত্রে জানাগেছে, ইয়াবা ব্যবসায়ী আবদুর রহিমের স্ত্রী আনোয়ারা বেগমও ২০১৮ সালে ইয়াবাসহ শহরের হোটেল সাগরগাঁও থেকে আটক করা হয়। এই আনোয়ারা প্রায় এক বছর পর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পায়।

সুত্র আরো জানায়, গত ৮ মাস আগে আবদুর রহিমের ইয়াবা বহনকালে শহরের লালদিঘীর পাড়স্থ একটি গাড়ি কাউন্টার থেকে ৩০০০ পিস ইয়াবাসহ এক নারীকে আটক করে কক্সবাজার থানা পুলিশ। সে বর্তমানে কারাগারে আছেন। আটক নারীর সন্তান ও পরিবারকে দেখভাল করছেন ইয়াবা কারবারী আবদুর রহিম।

এলাকাবাসী আরো জানান, আবদুর রহিম স্বপরিবারে থাকেন ময়মনসিংহ শহরে। দুই তিনমাস পরপর পশ্চিম কুতুবদিয়াপাড়ায় আসেন রহিম। ইয়াবার চালানের বন্দোবস্ত করে দিয়ে চলে যান ময়মনসিংহে।

একটি সুত্র জানিয়েছেন, আবদুর রহিমের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম গত দুই সপ্তাহ আগে ময়মনসিংহ থেকে শহরের পশ্চিম কুতুবদিয়াপাড়ায় আসেন। এখানে এসেই ইয়াবার চালান ব্যবস্থা করেদেন স্ত্রী আনোয়ারা। এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর মুখে মুখে।
ট্রাক সরবরাহকারী ও শ্রমিক মাঝি নুরুল ইসলাম বলেন, আবদুর রহিমের শুটকির গুড়া ময়মনসিংহে নিয়ে যাওয়ার জন্য গত বুধবার দিনে শহরের ১নং ওয়ার্ড নাজিরার টেক শুটকি মহাল থেকে বোঝাই করা হয়েছিল। চালানের মাধ্যমেই শুটকিগুড়া বোঝাই ট্রাকটি ময়মনসিংহে আবদুর রহিমের গোডাউনে খালাস করার কথা ছিল। পথিমধ্যে ইয়াবাসহ যাত্রাবাড়ি এলাকায় র্যাবের হাতে ট্রাকট জব্দ ও ৬১ হাজার ১ পিস ইয়াবাসহ চালক হেলফার আটক হয়েছে বলে আবদুর রহিমের কাছ থেকে জেনেছি।

এব্যাপারে অভিযুক্ত আবদুর রহিমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শুটকির গুড়াগুড়ো আমারই, তবে আটক ইয়াবাগুলো আমার নয়।

আপনার মন্তব্য দিন