কক্সবাজারে ফের ইয়াবা লুট : চলছে তোলপাড়

ডেস্ক রিপোর্ট।।

কক্সবাজার শহরে এক কোটি পিস ইয়াবা ট্যাবলেট লুটের ঘটনায় মিজান নামে একজন কারবারি বন্ধুকযুদ্ধে মারা যাওয়ার পর পরই আবারও ইয়াবা লুটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এবার ইয়াবা ট্যাবলেট লুটের ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজারের ঝিলংজা বাংলাবাজার স্টেশনে।

আজ সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১১ টার দিকে প্রায় এক লাখ পিস ইয়াবা লুটের ঘটনা নিয়ে ওই এলাকায় দিনভর তোলপাড় চলছে। দুপুর থেকে ইয়াবা লুটের বিষয় নিয়ে বাংলাবাজার এলাকায় তোলপাড় চলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টিপু সোলতান।

স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, বাংলাবাজার ও পিএমখালী এলাকা কেন্দ্রিক একটি ইয়াবা সিন্ডিকেট রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। ওই সিন্ডিকেটের দুই সদস্য পিএমখালী এলাকার করিম ও উখিয়া কোটবাজার এলাকার হেলাল সোমবার সকাল ১১ টার দিকে বাংলাবাজার স্টেশনে আসে। এ সময় তাদের কাছে একটি পলিথিনে প্রায় ১ লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটও ছিল। ইয়াবা ট্যাবলেটের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে বাংলাবাজার এলাকার খোরশেদুল হক, দালাল বশির, জাহাঙ্গীর আলম ও শাহাজাহানের নেতৃত্বে ওই দুইজনকে হামলা চালিয়ে ইয়াবাগুলো ছিনিয়ে নেন।

ইয়াবাগুলো ছিনিয়ে নেওয়ার পর করিম ও হেলালকে ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে দেয় ইয়াবা ব্যবসায়ী দাবি করে। এরপর কৌশলে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করা হয় হেলাল ও করিমকে।

এ বিষয়ে ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টিপু সোলতান বলেন, সকালে বাংলাবাজার এলাকায় খোরশেদুল হক ও জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে ইয়াবা ট্যাবলেট লুটের ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি।

পরে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখি; লুটের ঘটনা সত্য। এর আগেও খোরশেদুল হকের নেতৃত্বে বাংলাবাজার এলাকায় ইয়াবা লুটের ঘটনা ঘটেছিল। তাদের একটি সিন্ডিকেটও রয়েছে। ওই সিন্ডিকেটের বেশ কয়েকজন হত্যাসহ বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামি।

ঘটনার বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি অপারেশন মাসুম খান বলেন, ইয়াবা ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি আমাদের কেউ অবগত করেনি। ঘটনাটি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি তদন্ত খায়রুজ্জামান বলেন, ইয়াবার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাচ্ছি। যদি ঘটনা সত্য হয় তাহলে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার শহরের মাঝির ঘাট এলাকা থেকে এককোটি ইয়াবা লুটের ঘটনা ঘটেছিল।

এরপর পুলিশ ঘটনা নিয়ে তদন্ত করে লুট হওয়া দুই লাখ ইয়াবাও উদ্ধার করেছিল। আটক করেছিল বেশ কয়েকজন আসামীকে। ওই ইয়াবা লুটের মূলহোতা টেকপাড়া এলাকার মিজান ২০ জুলাই পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল ১০ হাজার ইয়াবা ও বন্দুক।

আপনার মন্তব্য দিন