মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:০২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
চকরিয়া খুটাখালীতে পাওনা টাকার জন্য দুই শিশুকে হত্যার চেষ্টা উখিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রধানমন্ত্রীর জম্মদিন উদযাপন কালারমারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান তারেকের সাড়ে ৬ লাখ টাকা জব্দ করলো দুদক পিএমখালীতে গৃহবধু ও তার ছেলেকে মধ্যযুগীয় বর্বরতায় নির্যাতনের অভিযোগ বদর মোকাম মসজিদ নিয়ে ‘মিথ্যা সংবাদকারী’দের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রয়োজনে সিটিজি সংবাদ ডটকমের সেরা ব্যুরো প্রধান কক্সবাজারের শাহজাহান চৌধুরী শাহীন মৌলিক সংবাদ প্রকাশে সিটিজি সংবাদ অনন্য: প্রতিনিধি সভায় বক্তারা সৈকত দ্বিখণ্ডিত করণ বন্ধে জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়েছে ইয়েস কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে দ্বিখণ্ডিত করার অভিযোগ কক্সবাজার বদর মোকাম জামে মসজিদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদ মুসল্লীদের মানববন্দন
সংবাদ শিরোনাম
চকরিয়া খুটাখালীতে পাওনা টাকার জন্য দুই শিশুকে হত্যার চেষ্টা উখিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রধানমন্ত্রীর জম্মদিন উদযাপন কালারমারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান তারেকের সাড়ে ৬ লাখ টাকা জব্দ করলো দুদক পিএমখালীতে গৃহবধু ও তার ছেলেকে মধ্যযুগীয় বর্বরতায় নির্যাতনের অভিযোগ বদর মোকাম মসজিদ নিয়ে ‘মিথ্যা সংবাদকারী’দের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রয়োজনে সিটিজি সংবাদ ডটকমের সেরা ব্যুরো প্রধান কক্সবাজারের শাহজাহান চৌধুরী শাহীন মৌলিক সংবাদ প্রকাশে সিটিজি সংবাদ অনন্য: প্রতিনিধি সভায় বক্তারা সৈকত দ্বিখণ্ডিত করণ বন্ধে জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়েছে ইয়েস কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে দ্বিখণ্ডিত করার অভিযোগ কক্সবাজার বদর মোকাম জামে মসজিদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদ মুসল্লীদের মানববন্দন

চন্দনাইশ থেকে দুই ভাইকে তুলে নিয়ে টেকনাফেে হত্যা করেন ওসি প্রদীপ

নিউজ কক্সবাজার ডটকম
  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২০

ক্রসফায়ার ক্রস চেক-‘রাতে চাঁদা চেয়েছিল ৮ লাখ, সকালেই দুই ভাই লাশ”

চট্টগ্রাম ব্যুরো।।

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার একজন বাহরাইন প্রবাসীসহ দুই ভাইকে তুলে নিয়ে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে হত্যা করেন টেকনাফ থানার বহিষ্কৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ।

গত ১৬ জুলাই চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেশব চক্রবর্তীর যোগসাজশে ওই দুই ভাইকে তুলে নিয়ে গিয়ে টেকনাফে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে নিহত’ দুই ভাইয়ের স্বজনরা।

গত ১৬ জুলাই টেকনাফে ‘ইয়াবা কারবারি হিসেবে বন্দুকযুদ্ধে নিহত’ হওয়া দুই ভাইয়ের একজন ছিলেন বাহরাইন প্রবাসী। এদের নামে কোনো থানায় একটি মামলা কিংবা জিডিও ছিল না। যখন ধরে নিয়ে যাওয়া হয়, তখনও কোনো অভিযোগ ছিল না।

জানা গেছে, করোনাকালীন সংকটে নিরূপায় হয়ে দেশে ফেরেন বাহরাইন প্রবাসী ছোট ভাই আজাদ। দেশে ফেরার ২ মাস ১৪ দিনের মাথায় গত ১৩ জুলাই এক বন্ধুর ফোন পেয়ে চন্দনাইশের কাঞ্চননগর ইউনিয়নের নিজ ঘর থেকে বের হয়ে আর ঘরে ফেরেননি আজাদ। টানা দুই দিনেও আজাদের কোনো খোঁজ না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করার সিদ্ধান্ত নেয় তার পরিবারের সদস্যরা।

 

ছোট ভাই নিখোঁজ হওয়ার ঠিক দুদিন পর ১৫ জুলাই বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজের সামনের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে আজাদের বড় ভাই ফারুককে আটক করে নিয়ে যায় চন্দনাইশ থানা পুলিশ।

চন্দনাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের সদস্যদের জানায়, কোনো মামলা না থাকলেও সন্দেহভাজন হিসেবে ফারুককে আটক করা হয়েছে।

পরিদর্শক (তদন্ত) এও নিশ্চিত করেন, ওসি কেশব চক্রবর্তীর নির্দেশেই ফারুককে আটক করা হয়েছে। ওসি বাইরে গেছেন, তিনি থানায় ফিরলে জিজ্ঞাসাবাদ করে ফারুককে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে তিনি অবশ্য আশ্বস্তও করেছিলেন।

পুলিশের পরামর্শে সন্ধ্যা সাতটার দিকে আবারও স্বজনরা চন্দনাইশ থানায় গেলে জানানো হয় টেকনাফ থানায় ১৪ জুলাই দায়ের করা একটি বন্দুক যুদ্ধ  মামলায় ফারুককে টেকনাফ থানায় পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, থানা থেকে ফেরার কয়েক ঘন্টার মাথায় ফারুক ও আজাদের মায়ের মোবাইলে একটি নাম্বার থেকে ফোন করে অজ্ঞাত পরিচয় একজন বলেন, ‘তোর দুই ছেলে আমাদের কাছে আছে। দুই ছেলেকে জীবিত ফেরত চাইলে রাতের মধ্যে আমাদের ৮ লাখ টাকা দিতে হবে। না হলে সকালে ছেলের লাশ পাবি।’ একথা বলেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। কিন্তু তারা পুলিশের দাবীকৃত টাকা দিতে পারেনি।

যেমন কথা তেমন কাজ। এর পরদিন ১৬ জুলাই সকাল ৮টার দিকে টেকনাফ থানা থেকে তাদের মায়ের নাম্বারে ফোন করে জানানো হয় দুই ভাই আজাদ ও ফারুক টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

ওই সময় টেকনাফ থানার পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, ‘চট্টগ্রামের চন্দনাইশ এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ করতে এসে কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই ভাই নিহত হয়েছেন।’

মেজর (অব.) সিনহা রাশেদ হত্যামামলার আসামি টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ওই সময় জানিয়েছিলেন , টেকনাফের মৌলভীপাড়া এলাকায় ইয়াবা ক্রয় করতে এলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজাদুল হক নামে একজনকে আটক করা হয়। পরে তার তথ্যের ভিত্তিতে মূল হোতা বড় ভাই ফারুককে আটক করা হয়। এ সময় তারা স্বীকার করে দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে ইয়াবা সরবরাহ করে আসছিল। একপর্যায়ে দুই ভাইকে নিয়ে  ইয়াবা উদ্ধার অভিযানে গেলে সহযোগীরা পুলিশের ওপর গুলি ছোঁড়ে।

আজাদের বড় বোন আইরিন আক্তার বলেন, ‘আজাদ মাত্র কদিন আগে বাহরাইন থেকে ফিরেছিল। যেদিন সে নিখোঁজ হয় সে সময় সে দুপুরের খাবার খেয়ে শুয়েছিল। হঠাৎ একটা কল আসে তার মোবাইলে। তাকে বলতে শুনেছি, আচ্ছা আমি বের হচ্ছি দোস্ত। এভাবে নিশ্চয়ই কেউ ইয়াবা কিনতে চন্দনাইশ থেকে টেকনাফ চলে যাবে না?’

তিনি বলেন, ‘আসলে আজাদের কোনো বন্ধুকে দিয়ে ফাঁদ পেতে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে একই কায়দায় নিয়ে যাওয়া হয় ফারুককে। আমার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে কোন মামলা বা ওয়ারেন্ট ছিল না। অথচ তাদেরই কিনা এভাবে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হলো? আমরা কার কাছে গিয়ে বিচার চাইবো? আমার বৃদ্ধা মা কিভাবে নিজেকে সান্তনা দেবেন? ফারুকের ১০ বছর বয়সী একটা মেয়ে আর ১ বছরের একটা ছেলে আছে। তাদের কী হবে?’

এদিকে, শুরু থেকেই ফারুককে গ্রেপ্তার করা কিংবা টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের কথা সাফ অস্বীকার করে আসছিলেন চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেশব চক্রবর্তী।

তিনি বলছিলেন, এই বিষয়ে চন্দনাইশ থানা পুলিশ কিছুই জানে না। দুই সহোদরের মৃত্যুর পর বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমকে এমন কথাই বলেছিলেন তিনি। তবে বিভিন্ন গনমাধ্যমের কাছে ফারুককে আটক এবং এরপর টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন কেশব চক্রবর্তী।

তিনি বলেন, ‘ফারুককে কোন মামলা বা ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তার পরিবার যে দাবি করছে তা সঠিক নয়। কারণ অবশ্যই আছে।’ ঠিক কোন্ অভিযোগে কোন্ প্রক্রিয়ায় ফারুককে গ্রেপ্তার ও টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে— এমন প্রশ্নের জবাবে কেশব চক্রবর্তী বলেন, ‘সব তো আর ফোনে বলা যাবে না। আপনি থানায় আসুন। থানায় আসলে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারবেন।’

কেন দুই ভাই ওসি প্রদীপের রোষের শিকার?
পরিবারের অভিযোগের সূত্র ধরে ফারুক ও আজাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল ঠিক কী কারণে ওসি প্রদীপের এমন রোষানলের হলেন শিকার দুই ভাই? উত্তরে তাদের বড় বোন আইরিন আক্তার বলেন, ‘আমি জানি না কেন আমার ভাইদের সাথে এমন ঘটলো? তবে খালি এটি বলতে পারি এই সম্পর্কে পুলিশ যা বলেছে তা সত্য নয়। আমার দুই ভাইকেই পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছে। কেন কী হয়েছে সে বিষয়ে তদন্ত করে সত্য ঘটনা প্রকাশ করা হোক।’

এছাড়া এভাবে দুই ভাইকে চন্দনাইশ থেকে তুলে নিয়ে টেকনাফে বন্দুক যুদ্ধের নামে হত্যার বিচার চাইছেন নিহতদ্বয়ের পরিবার।

 

আপনার মন্তব্য দিন

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো সংবাদ>>
© All rights reserved © 2017-2020 নিউজ কক্সবাজার ডটকম
Theme Customized By Shah Mohammad Robel