মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
চকরিয়া খুটাখালীতে পাওনা টাকার জন্য দুই শিশুকে হত্যার চেষ্টা উখিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রধানমন্ত্রীর জম্মদিন উদযাপন কালারমারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান তারেকের সাড়ে ৬ লাখ টাকা জব্দ করলো দুদক পিএমখালীতে গৃহবধু ও তার ছেলেকে মধ্যযুগীয় বর্বরতায় নির্যাতনের অভিযোগ বদর মোকাম মসজিদ নিয়ে ‘মিথ্যা সংবাদকারী’দের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রয়োজনে সিটিজি সংবাদ ডটকমের সেরা ব্যুরো প্রধান কক্সবাজারের শাহজাহান চৌধুরী শাহীন মৌলিক সংবাদ প্রকাশে সিটিজি সংবাদ অনন্য: প্রতিনিধি সভায় বক্তারা সৈকত দ্বিখণ্ডিত করণ বন্ধে জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়েছে ইয়েস কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে দ্বিখণ্ডিত করার অভিযোগ কক্সবাজার বদর মোকাম জামে মসজিদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদ মুসল্লীদের মানববন্দন
সংবাদ শিরোনাম
চকরিয়া খুটাখালীতে পাওনা টাকার জন্য দুই শিশুকে হত্যার চেষ্টা উখিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রধানমন্ত্রীর জম্মদিন উদযাপন কালারমারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান তারেকের সাড়ে ৬ লাখ টাকা জব্দ করলো দুদক পিএমখালীতে গৃহবধু ও তার ছেলেকে মধ্যযুগীয় বর্বরতায় নির্যাতনের অভিযোগ বদর মোকাম মসজিদ নিয়ে ‘মিথ্যা সংবাদকারী’দের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রয়োজনে সিটিজি সংবাদ ডটকমের সেরা ব্যুরো প্রধান কক্সবাজারের শাহজাহান চৌধুরী শাহীন মৌলিক সংবাদ প্রকাশে সিটিজি সংবাদ অনন্য: প্রতিনিধি সভায় বক্তারা সৈকত দ্বিখণ্ডিত করণ বন্ধে জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়েছে ইয়েস কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে দ্বিখণ্ডিত করার অভিযোগ কক্সবাজার বদর মোকাম জামে মসজিদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদ মুসল্লীদের মানববন্দন

কক্সবাজার এলএ শাখায় দুর্নীতিকে শিল্পে পরিণত করেছে ৪৬ দালাল!

নিউজ কক্সবাজার ডটকম
  • আপডেট টাইম বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন।।

মাহমুদা বেগম। তার বাড়ী কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কালারমার ছড়া। একখন্ড জমি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দান বন্দোবস্তি দিয়েছিলেন।।

মহেশখালীতে কয়লা বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মানে তার জমিসহ আরো শতশত মানুষের জমি অধিগ্রহনের আওতায় আনে সরকার ।

কিন্তু এলএ অফিস কেন্দ্রীক দালাল জালাল ও বাহাদুর, তারা মিলে মিশে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভুমি অধিগ্রহণ শাখা থেকে ৩৭ লাখ ৮২ হাজার টাকা তুলে নিয়ে গেছে। এই অসহায় নারী দীর্ঘ ১ বছর যাবত এলএ অফিস ও ডিসি অফিসের বারান্দায় বারান্দায় ঘুরছে টাকা ফেরত পাবার আশায়। তবে পেছনে তারেক নামের এক জনপ্রতিনিধি নেপথ্যে কাজ করেছে বলে অভিযোগ।
অসহায় মাহমুদার মতো এধরনের আরো অসংখ্য মানুষের জমির ক্ষতিপুরণের টাকা এলএ শাখা থেকে দালাল চক্র উত্তোলন করেছে। এতে সহযোগীতা দিয়েছে এলও, কাননগো, সার্ভেয়ার। মাহমুদার মতো আরো অনেক মানুষ ক্ষতিপূরণের টাকা না পেয়ে পথে পথে ঘুরছে। এধরনের দৃশ্য নিত্য দিনের রুটিনে পরিণত হয়েছে কক্সবাজার ভুমি অধিগ্রহণ শাখায়।

আরো জানা গেছে, কক্সবাজারে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিপুরণের টাকা নিয়ে দুর্নীতিকে শিল্পে পরিণত করেছিল ৪৬ জন দালাল। দুর্নীতিকে শিল্পে পরিণত করা এসব দালাল চক্র দু’হাতে কামিয়েছেন কাড়ি কাড়ি টাকা। গড়েছে বিত্তবৈভব। আসলে এতো টাকার হিসেবেও ইদানিং গরমিল হয়ে যাচ্ছে অনেকের। এই শিল্পের উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও কাজের কাজ হচ্ছে না কিছু। অনেকেই এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন।

তবে এসব অভিযোগ অনুসন্ধান
করতে গিয়ে ৪৬ জন দালালের
সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন
কমিশন (দুদক)।তাদের মধ্যে জনপ্রতিনিধি যেমন রয়েছেন, তেমনি আছেন রাজনৈতিক নেতা,  আইনজীবী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাংবাদিকও।জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখায় প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন
ধরে ঘুষ দুর্নীতি চালিয়ে আসছিলেন তারা। সম্প্রতি এসব দালালের সম্পদের অনুসন্ধানও শুরু করেছে দুদক। অনুসন্ধানের শুরুতেই
কক্সবাজর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর জাবেদ মো. কায়সার নোবেলের ২০ কোটি ৮০ লাখ টাকা জব্দ করেছে দুদক আটক করা হয়েছে ভূমি অধিগ্রহণ শাখার এক সার্ভেয়ার সহ চার দালালকে।
বর্তমান অনেকগুলো বড় উন্নয়ন প্রকল্প চলছে কক্সবাজারে। ৭০টির বেশি প্রকল্পে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছে ২০ হাজার একরের বেশি পরিমাণ জমি। অধিগ্রহণকৃত এসব জমির মালিকদের
ক্ষতিপূরণ প্রদানে কমিশন  বাণিজ্যই ছিল এ দালালচক্রের মূল কাজ।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার জেলায় চলমান প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রথম কাজ ভূমি অধিগ্রহণ করতে গিয়ে দালালদের সিন্ডিকেটটি তৈরি হয়েছে।জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দালালের তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছিল। এসব দালাল জমির মালিকদের নাম দিয়ে বিভিন্ন কৌশলে সরকারের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বিভিন্ন কৌশলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে বেশ কয়েকটি দুর্নীতি মামলাও দায়ের করা হয়েছে আদালতে।
এলএ শাখায় অনিয়ম দুর্ণীতির বিষয়টি নজরে আসার পর দুদক আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধানে নামেন।
অনুসন্ধানের শুরুতেই গত ২১ জুলাই দুদকের একটি দল অভিযান চালিয়ে সেলিম উল্লাহ নামের এক দালালকে আটকের পর বিকালে কক্সবাজার সদর মডেল থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
কক্সবাজার শহরের লালদিঘী পাড়ের হোটেল ইডেন গার্ডেনের দালালের নিজস্ব অফিস থেকে দুদক টিম তাকে আটক করে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে আটকের পর প্রায় ৪ ঘণ্টাব্যাপী দুদক সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। অভিযানে দালাল সেলিম উল্লাহর অফিস থেকে ৬২ লাখ ৬২ হাজার টাকার ৩৪টি মূল চেক ও ঘুষ লেনদেন হিসাবের ৮/১০টি ডায়েরি ও বিপুল পরিমাণ ক্ষতিপূরণের আবেদনের ফাইল জব্দ করা হয়েছে।
এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি র‌্যাব সদস্যরা কক্সবাজার জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় কর্মরত সার্ভেয়ার ওয়াসিম, ফরিদ উদ্দিন ও সার্ভেয়ার ফেরদৌস খানের বাসায় অভিযান চালিয়ে ৯৩ লাখ ৬০ হাজার ঘুষের টাকাসহ বিপুল পরিমাণ কাগজপত্র জব্দ করে। সেই সঙ্গে র‌্যাব সদস্যরা সার্ভেয়ার ওয়াসিমকে আটক করেন।
পরে গত ১০ মার্চ দুদকের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দীন বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সার্ভেয়ার ওয়াসিম এবং পলাতক সার্ভেয়ার ফেরদৌস খান ও সার্ভেয়ার ফরিদ উদ্দিনকে আসামি করা হয়। এ মামলায় শীর্ষ দালাল সেলিম উল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
তার তথ্যের ভিত্তিতে পরে ৩ আগস্ট মোহাম্মদ কামরুদ্দিন ও সালাহ উদ্দিন নামের আরো দুই দালালকে আটক করে দুদক। আটকের সময় এসব দালালের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকার নগদ চেক ও ভূমি অধিগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ মূল নথি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর জাবেদ মো. কায়সার নোবেলের কাছ থেকে ২০ কোটি ৮০ লাখ টাকা জব্দ করা হয়।এর মধ্যে ১৩ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার জেলা ডাকঘরে অভিযান চালিয়ে নোবেলের নামে জমা থাকা ৮০ লাখ টাকা এবং ১ সেপ্টেম্বর বেসিক ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও ট্রাস্ট ব্যাংক কক্সবাজার শাখায় ২০ কোটি টাকা জব্দ করা হয়।
দুর্নীতি দমন কমিশন চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা র্কাযালয়-২ এর উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালিয়ে দালালদের আটক ও তাদের অবৈধ অর্থ জব্দ করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদক কর্মকর্তা মো. শরীফ উদ্দিন বলেন, নিজস্ব অনুসন্ধান ও আটক দালালদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে ৪৬ দালালের সন্ধান পাওয়া গেছে। এখন যাচাই বাছাই  করে
প্রকৃত দালালদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, কক্সবাজারে বর্তমান সরকারের চলমান সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প যাতে সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন হয়, সেই লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন কাজ করছে।কিন্তু এসব কাজ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ভূমি অধিগ্রহণ শাখা কেন্দ্রিক বেশ কয়েকজন দালালের সন্ধান পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কয়েকজনকে গ্রেফতার করে সাজাও দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া ও তারাবনিয়ারছড়া এলাকা থেকে ৯৩ লাখ টাকাসহ সার্ভেয়ার ওয়াসিমকে আটক করা হয়। সেখান থেকে ১৫ লাখ টাকার চেক ও ঘুষ গ্রহণের বিভিন্ন নথি জব্দ করা হয়। এর পরই জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত মালিকদের প্রতি অমানবিক আচরণ ও আর্থিক হয়রানি প্রকাশ্যে আসে। এর পর পরই ২৭ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসনের এলএ শাখার ৩০ কর্মকর্তাকে এক আদেশে শাস্তিমূলক বদলি করে ভূমি মন্ত্রণালয়। তার মধ্যে জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় কর্মরত ১৯ জন সার্ভেয়ার, সাতজন কানুনগো ও চারজন অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়।

আপনার মন্তব্য দিন

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো সংবাদ>>
© All rights reserved © 2017-2020 নিউজ কক্সবাজার ডটকম
Theme Customized By Shah Mohammad Robel