সোমবার, ৪ঠা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
Homeকক্সবাজার সদরআল ফুয়াদের ডাঃ ফাতিমা জান্নাতের ভুল চিকিৎসায় টেকনাফের গৃহবধূ ফারজানার প্রথম মৃত্যু...

আল ফুয়াদের ডাঃ ফাতিমা জান্নাতের ভুল চিকিৎসায় টেকনাফের গৃহবধূ ফারজানার প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী আজ; মায়ের ফিরে আসার অপেক্ষায় এতিম তিন ছেলে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রবাদ আছে, বাঢ়ে ছুঁলে ১৮ ঘা, আর পুলিশের ছোঁয়ায় ৩৬ ঘা। কালক্রমে বর্তমানে আমাদের যে অবস্থা তাতে মনে হচ্ছে ডাক্তার ছুঁলে ৭২ ঘা। চোর, ডাকাত, ছিনতাইকারী, পুলিশ, র‍্যাব, উকিলসহ যাদের টাকা নিতে হয়, তাদের কষ্ট করে, কারসাজি করে টাকা নিতে হয়। কিন্তু ডাক্তার, তাদের জন্য রয়ে গেছে সম্মানজনক অর্থ প্রাপ্তির রাস্তা। মানুষ প্রয়োজনে জমিজমা ঘরবাড়ি বিক্রি করে বিনয়ের সঙ্গে ডাক্তারের হাতে তুলে দেন টাকা। প্রিয়জনের অসুস্থ অবয়বের পানে তাকিয়ে মানুষ হারিয়ে ফেলে তার হিতাহিত জ্ঞান। যেকোন মূল্যে প্রিয় মানুষের প্রাণ ভিক্ষা চেয়ে।

আমাদের দেশে শিক্ষা ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে কোন সমস্যা যে নেই, তা নয়। যেখানে সেখানে গজিয়ে ওঠা কিন্ডারগার্টেন এবং ক্লিনিকগুলো দেখলেই বোঝা যায়। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অথবা দুর্ঘটনা কবলিত কেউ ক্লিনিকে ভর্তি হলে বুঝতে পারে কত ধানে কত চাল।

টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যং পাড়ার বাসিন্দা জিয়াউর রহমানের স্ত্রী ফারজানা ইয়াছমিন। সন্তান সম্ভবা ফারজানা ইয়াছমিনকে কক্সবাজার শহরের ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতালের নারী চিকিৎসক ফাতিমা জান্নাতের কাছে পরামর্শ নিতে যান স্বামী জিয়াউর রহমান। কিন্থু লোভী এই ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় প্রান দিতে হয়েছে ফারজানার। সকলকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে ও ৩টি সন্তান (আলিফ,  আয়মান, মাজিয়া জান্নাত) কে চির এতিম করে না ফেরার দেশে চলে গেছে ফারজানা ইয়াছমিন।

স্বাধীনতা বিরোধী সংঘটন জামাতের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা এই ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। স্থানীয়,জাতীয় ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে এই নিয়ে বেশ কিছু সংবাদ প্রকাশিত হলেও টনক নড়ছেনা কতৃপক্ষের। এই হাসপাতালটি এখন মানুষ মারার কারখানায় পরিণত হয়েছে। আর কত ভুল চিকিৎসায় রোগী মারা গেলে ঘুম ভাঙবে কতৃপক্ষের এমনটি প্রশ্ন সাধারণ মানুষের।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ফুয়াদ আল-খতীব  হাসপাতালে প্রায় সময় ভুল চিকিৎসায় মানুষের মৃত্যু হয়। এসব মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে প্রচার করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে বিভিন্ন অপরাধকান্ডে জড়িত এক শ্রেনীর দালাল জড়িত আছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতালের নানা অনিয়ম নিয়ে গনমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের কিছু শিরোনাম নিচে দেয়া হলোঃ

=>> গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে ভর্তি থাকা পুলিশের এক কর্মকর্তাকে হাসপাতালের কর্মচারির অসৌজন্য আচরণের শিকার,
=>> হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় উখিয়া কলেজ ছাত্রের মৃত্যু,
=>> ফুয়াদ আল খতীব হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা, ‘ভুল রিপোর্টে’ মৃত্যুর অভিযোগ,
=>> ফুয়াদ আল খতীব হাসপাতালে আবারও ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু,
=>> বাবার মৃত্যুতে দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনজীবীর মামলা,
=>> টিউমারের অপারেশনে পেট থেকে বের হলো ‘ব্যান্ডেজ’, ৭ মাস আগে সিজারেই সর্বনাশ

এই বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নিহতের স্বামী জিয়াউর বলেন, ৪ জুন ২০২২, সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে কক্সবাজার শহরের ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতালের চিকিৎসক ফাতিমা জান্নাতের কাছে পরামর্শ নিতে সন্তান সম্ভবা ফারজানা ইয়াছমিনকে নিয়ে আসেন স্বামী জিয়াউর। এসময় চিকিৎসক রোগীকে হাসপাতালটির পার্শ্ববর্তী অপর একটি ক্লিনিক থেকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষা করাতে পরামর্শ দেন। রোগীকে সেখানে নেওয়ার পর পরীক্ষা করাতে দেরী হওয়ায় সঙ্গে থাকা সন্তানদের হোটেলে খাবার খাওয়াতে নিয়ে যান জিয়াউর। এরইমধ্যে আল্ট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতালের চিকিৎসকের দুই সহকারী রোগীকে নিতে আসেন। ক্লিনিকে স্বামী ও স্বজনদের অনুপস্থিতিতে ফারজানা যেতে না চাইলে চিকিৎসকের সহকারীরা তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান। ফারজানা বিষয়টি স্বামী ও স্বজনদের মোবাইল ফোনে জানাতে গেলে চিকিৎসকের সহকারীরা তার কাছ থেকে ফোন কেড়ে নেন বলে অভিযোগ করেন নিহতের স্বামী।

নিহতের স্বামী জিয়াউর আরও অভিযোগ করে বলেন, চিকিৎসকের সহকারীরা ফারজানাকে ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতালে নেয়ার পরপরই সরাসরি অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। তারা রোগীর স্বামী ও স্বজনদের কোন ধরণের সম্মতি ছাড়াই সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করান। এক পর্যায়ে রাত ১১ টার পর জিয়াউর হাসপাতালে পৌঁছালে হাসপাতালের লোকজন একটি ফর্মে তার স্বাক্ষর নেন। এরই মধ্যেই রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হলে চিকিৎসক রক্ত দেয়ার কথা জানান তাদের। এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে রোগীকে ৫ ব্যাগ রক্ত দেয়া হয়। এরপর রোগীর অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হলে চিকিৎসক তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আইসিইউতে পাঠান। সেখানে রাত ৩ টার দিকে ফারজানার মৃত্যু হয়।

জিয়াউর রহমানের দাবি, টাকার লোভে স্বজনদের সম্মতি ছাড়াই তার স্ত্রীর সিজার করেছে চিকিৎসক। চিকিৎসকের ভুলেই তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতাল ও চিকিৎসকের কাছে অভিযোগ জানানো হলে সমঝোতার চাপ দিয়েছেন তারা।

সংবাদ সম্মেলন শেষে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন নিহতের স্বজনরা।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ডাঃ ফাতেমা জান্নাত এর কাছে জানতে চাইলে বলেন, রোগীর ব্যাথা আরম্ভ হওয়ায় অপারেশন রুমে নিয়ে সিজার করলে প্রথমে রোগী সুস্থ ছিল। কিছুক্ষণ পর রোগী হার্ট ফেল করে পরবর্তীতে রোগী রক্তজমাট না বাধায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে দীর্ঘক্ষণ পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগীতায় সদর হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দেয়। রোগী অভিভাবক ছাড়া কেন রোগীকে ওটিতে নিয়ে যাওয়া হল সে প্রশ্নের সৎ উত্তর দিতে পারে নাই।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments